অভিবাসন ব্যবস্থা কঠোর করার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ফি চালুর প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। প্রস্তাবিত নিয়মে এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রাথমিকভাবে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে।
বুধবার প্রকাশিত সরকারি নোটিশে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ওপিটির জন্য ৭০ হাজার ডলার এবং পরবর্তী অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের জন্য ৩০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ওপিটির জন্য সংশ্লিষ্ট ফি প্রায় ৫০০ ডলার।
ডিএইচএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফি দেওয়ার আইনি দায় সংশ্লিষ্ট স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (SEVP)-অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা বা অন্য কোনো উৎস থেকে এই অর্থ আদায় করতে পারবে।
ডিএইচএস বলছে, নতুন ফি চালুর উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও অপব্যবহার কমানো, ব্যবস্থাটির স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে এফ-১ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। পড়াশোনা চলাকালে নির্দিষ্ট শর্তে কাজের সুযোগের পাশাপাশি স্নাতক শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওপিটির আওতায় কাজ করা যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—এসটিইএম—বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা রয়েছে।
অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ওপিটি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি ভিসার সুযোগ পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত নতুন ফি কার্যকর হলে এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো কার্যকর হয়নি। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে ৩০ দিন। প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে তা কার্যকর করার আগে আরও ৬০ দিন সময় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএইচএস।
প্রস্তাবটি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জেরও আশঙ্কা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অভিবাসনসংক্রান্ত সাম্প্রতিক কিছু বিধিনিষেধের মতো এই প্রস্তাবও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক